KiHobe Latest Articles

Ashit Sharkar
  • 0

বজ্রপাত ও শিলা বৃষ্টি কি কারনে হয়?

  • 0
বজ্রপাত ও শিলা বৃষ্টি কি কারনে হয়?

Leave an answer

You must login to add an answer.

1 Answer

  1. বজ্রপাত ও শিলা বৃষ্টি কেন হয়?

    আমরা ছোটবেলা থেকে একটি কথা শুনে  এসেছি যে বৃষ্টির সময় যেন খোলা আকাশ বা খালি স্থানে না দাঁড়ানো হয়।কারণটা আমরা সবাই ভালো করে জানি।বৃষ্টির সময় অথবা বিদ্যুৎ চমকানোর সময় বজ্রপাতের আশঙ্কা সবথেকে বেশি থাকে যার ফলে অনেক সময় মৃত্যুও হতে পারে।আর এটি সাধারণত খোলা মাঠ এবং গাছের নিচে বেশি, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এমনটা কেন হয়?
    আরো একটা জিনিস আমরা লক্ষ্য করি যে, বৃষ্টির সময় অনেক সময় দেখা যায় যে শিলাবৃষ্টি হয়ে থাকে। কিন্তু কেন হয় এই শিলাবৃষ্টি?

    বজ্রপাত কেন হয় সেটি সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে আমাদেরকে জানতে হবে স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি সম্পর্কে। সহজ ভাষায় স্টেটিক  ইলেকট্রিসিটি বলতে গেলে আমরা বুঝি যে দুটি বস্তুর মধ্যে ফিকশন অর্থাৎ দুটি বস্তুর মধ্যে ঘর্ষনের ফলে যে ইলেকট্রিসিটি তৈরি হয় তাকে আমরা স্টেটিক ইলেকট্রিসিটি বলতে পারি।উদাহরণস্বরূপ পরীক্ষামূলক ভাবে আমরা দেখতে পারি –
    মনে করেন একটি টেবিলের উপর কিছু ছোট ছোট কাগজের টুকরা রাখলাম এবং একটি বেলুন ফুলিয়ে তা আমরা একটি কাপড় দিয়ে ভালো করে ঘষলাম। বেলুন কে কাপড় দিয়ে ভালোভাবে ঘষার পর তার সাথে সাথে ওই টুকরো কাগজের সংস্পর্শে  নিলাম, দেখা যাবে যে ওই টুকরো কাগজ গুলো বেলুন এর সাথে চুম্বকের মত আকর্ষণ করছে। আর এই সাইন্স ই হল  স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি।আর এমনটা হওয়ার মূল কারণ হলো যখনই বেলুনকে ওই কাপড় দ্বারা ঘষা হয়েছিল তখন বেলুনের ভিতরে কিছু নেগেটিভ চার্জ তৈরি হয়েছিল এবং ওই কাগজের টুকরো যেগুলোর মধ্যে পজিটিভ চার্জ এর কারণে বেলুনের সাথে অ্যাটরাক করেছিল। আর এভাবে বেলুন কাগজের টুকরোগুলোকে মেগনেটের মত  তার শরীরে আটকে নেয়। তো বজ্রপাতের মূল কারণটাই এভাবে হয়ে থাকে।
    আমরা সবাই জানি যে মেঘ জলীয় বাষ্প হয়ে  উপরে গিয়ে ঠান্ডা হয়ে মেঘের সৃষ্টি করে। উপরের মেঘ এতটাই ঠান্ডা হয়ে যায় যে ছোট ছোট বরফের আকার ধারণ করে। আর এ বরফের  টুকরোগুলো ই একে অপরের সাথে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে,যার ফলে একটি নেগেটিভ চার্জ উৎপন্ন হয় মেঘের নিচের দিকে আর পজেটিভ চার্জ হালকা হওয়ার কারণে মেঘের উপর দিকে চলে যায়। তখন মেঘের মধ্যে এই চার্জ সেপারেট হয়ে যায়। যেমনটা আমরা আগে বলেছি যে স্টেটিক কোন বস্তুতে স্টেটিক নেগেটিভ চার্জ ক্রিয়েট হয়ে যায়। তবে এটা ঠিক যে, মেঘের ভিতরের চার্জ সেপারেট হওয়ার বিষয় নিয়ে এখনো রিসার্চ চলছে। কারণ এটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া বজ্রপাতের জন্য।
    বিদ্যুৎ চমকানোর তিন প্রকারের হয়ে থাকে।

    ১)ইন্ট্রা ক্লাউড লাইটিং ঃ এটির মানে হচ্ছে একটি মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানো। এটি সাধারণত মেঘের উপরের পজিটিভ চার্জ এবং মেঘের নিচের নেগেটিভ চার্জ যখন কাছাকাছি চলে আসে তখন একটি লাইটিং উৎপন্ন হয়। যেটাকে আমরা বিদ্যুৎ চমকানো বলে থাকি। কিন্তু এই প্রক্রিয়াতে কোন আওয়াজ হয় না।

    ২)ক্লাউড টু ক্লাউড লাইটিং ঃ এর মানে দুটি মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানো। একটি মেঘের নেগেটিভ চার্জ  যখন দ্বিতীয় মেঘের পজিটিভ চার্জে চলে আসে, তখন একটি লাইটিং ক্রিয়েট হয়। এই বিদ্যুৎ চমকানো দেখাও যেতে পারে আবার নাও দেখা যেতে পারে।

    ৩)ক্লাউড টু গ্রাউন্ড লাইটিং  ঃ এর মানে মেঘ থেকে ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত  বিদ্যুৎ চমকানো। এটাকে আমরা বজ্রপাত বলে জেনে থাকি। এটা মেঘের নিচের অংশে জমে থাকা নেগেটিভ চার্জ এর সাথে ভূমিতে থাকা কোন পজেটিভ কোন চার্জের সাথে এট্রাক্টিভ করে লাইটিং করে থাকে।এটি সাধারণত খোলা মাঠ এবং গাছের মধ্যে হয়ে থাকে। এজন্য বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ এবং গাছের নিচে কখনোই থাকবেন না। ভূমিতে পড়া এ বজ্রপাত প্রায় ২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস  পর্যন্ত গরম হয়ে থাকে। এ লাইটিং ব্যাপক আকারে শব্দ হয়ে থাকে এবং এ লাইটিং আশেপাশের হাওয়াকে গরম ও উত্তপ্ত করে তোলে।

    শিলাবৃষ্টি ঃ
    আকাশে যখন মেঘের পরিমাণ অনেক বেশি এবং ভারি হয়, তখনই বৃষ্টির সময় আকাশ থেকে বরফের টুকরো বা মেঘের কণা পড়তে থাকে,যাকে আমরা বরফের টুকরো অথবা শিলাবৃষ্টি বলে থাকি। আমরা যেটাকে বৃষ্টি বলি সেটাও আকাশ থেকে বিশাল বড় আকারের মেঘের কণা। আকাশে মেঘ জমতে জমতে অনেক ভারী হয়ে গেলে যদি ওই মেঘকে আকাশ ধরে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তখন মেঘের কণাগুলো আকাশ থেকে নিচে ভূপাতিত হওয়ার সময় মেঘের কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে কণাগুলো এত ছোট হয় যে সে গুলোকে আমরা বৃষ্টি আকারে দেখি। আর সে সময় মেঘের কণাগুলো যখন অনেক বেশি আকারে  আকাশ থেকে ঝরে তখন একে অন্যের সাথে অতি ঘর্ষণের  ফলেও চূর্ণ-বিচূর্ণ হতে পারে না কিংবা চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার পূর্বেই ভূপৃষ্ঠে পতিত হয় আর একারণেই বৃষ্টির সময় আকাশ থেকে বরফের টুকরো পড়ে যেটাকে আমরা শিলাবৃষ্টি বলে থাকি।