KiHobe Latest Articles

Ashit Sharkar
  • 0

বদলে যাওয়া প্রেমিকা শিমুর শেষ পরিনতি কি ছিল? পর্ব -১

  • 0
বদলে যাওয়া প্রেমিকা শিমুর শেষ পরিনতি কি ছিল? পর্ব -১

Leave an answer

You must login to add an answer.

1 Answer

  1. বদলে যাওয়া প্রেমিকা-শিমু

    – রাজু, দেশের শেষ প্রান্তের একটি গ্রামের স্বনামধন্য পরিবারের ছেলে রাজু। ফ্যামিলির অবস্থা মোটামুটি অনেকটাই ভালো। মা প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা এবং বাবা ব্যবসায়ী। ১ ভাই ১ বোন এর মধ্যে রাজু ছিল বড়।পড়াশোনায় খুবই মেধাবী ছিল সে।দেখতে-শুনতে চেহারাও ছিল ছোটবেলা থেকেই সুদর্শন।

    – শিমু, একই গ্রামের আরও একটি স্বনামধন্য পরিবারের মেয়ে ছিল সে।মা বাবার একমাত্র মেয়ে সে।তার বাবা ছিলেন একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক।মা ছিলেন গৃহিণী। শিমু রাজুর এক ক্লাস নিচে পড়তো। সে ও মেধাবী ছিল কিন্তু রাজুর মত এত মেধাবী ছিল না।

    – রাজু ও শিমু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই স্কুলে পড়তো রাজু পড়তো পঞ্চম শ্রেণীতে এবং শিমু পড়তো চতুর্থ শ্রেণীতে।রাজু এবং শিমুর প্রথম পরিচয় স্কুলেই,শিমু রাজুর কাছ থেকে তার বিভিন্ন বই নোট এগুলো নিত।

    রাজু যখন পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠে তখন শিমু চতুর্থ শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে উঠেছিল আর তাই রাজুর পঞ্চম শ্রেণীর বই এবং নোট গুলো সংগ্রহ করেছিল।এভাবে তারা প্রথম প্রথম অনেকটাই বন্ধুর মত ছিল কিন্তু মনে মনে তাদের ভিতর একটু একটু ভাল লাগাও কাজ করত তখনো।রাজু ষষ্ঠ শ্রেণীতে ওঠার পর যে হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিল ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন শিমুর বাবা।

    শিমুর বাবা আবার উনার বাড়িতে প্রাইভেটও পড়াতেন।উনি খুব ভালো গণিত পড়াতেন। তাই ওনার বাসায় অনেক ছাত্র-ছাত্রী  গণিতের জন্য যেত। রাজু যখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে যখন উঠলো তখন সে গণিতের জন্য শিমুর বাবার কাছে প্রাইভেট পড়তে যেত। তখন রাজুর সাথে শিমুর একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়ে যায়।পরের বছর যখন শিমু পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠে তখন রাজুর সাথে একই স্কুলে ভর্তি হয় সে।

    রাজু যখন শিমুর বাবার কাছে গণিত পড়তে যেত তখন শিমুও তার বাবার কাছে অন্য সব ষষ্ঠ শ্রেণির ছেলেমেয়েদের সাথে গণিত পড়ত।রাজু তখন ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণীতে  সবে মাত্র উঠেছে। তখন থেকেই রাজুর শিমুকে প্রচন্ড ভালো লাগতে শুরু করে। রাজু প্রায় সময় শিমুর দিকে তাকিয়ে থাকতো।

    তখনকার সময়ে কোন ছেলে কোন মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকা মানে ওই মেয়ের প্রেমে পড়া এটা বোঝানো।রাজু যখন স্কুলে যেত তখন সে ক্লাসে গিয়ে শিমুদের ক্লাসে যেত এবং তাকে দেখার জন্য তার ক্লাসের  আশে পাশে  ঘুরত।শিমুও সেটা লক্ষ্য করতো প্রায় সময়।এরই মধ্যে রাজুর ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা সেই বিষয়টা জেনে ফেলল।

    – কিছুদিন পর রাজু ভাবল যে সে তার প্রেমের কথা সে শিমুকে বলবে। কিন্তু কিভাবে বলবে সে তা ভেবে পাচ্ছিল না।রাজু তার মনের কথা একটি কাগজের মধ্যে লিখল।এবং সে এই প্রেমের চিঠি শিমুকে কিভাবে দিবে তা ভেবে পাচ্ছিল না।

    অবশেষে মাথায় বুদ্ধি এল,শিমুর কাছ থেকে সে একটি বই ধার আনল। পরবর্তীতে ওই বই ফেরত দেওয়ার সময় সে ওই বইয়ের মধ্যে সে চিঠি টা ডুকিয়া দিল।কিন্তু তার পরও সে শিমুকে কিছুই বলল না।চিঠি দেওয়ার পর থেকে রাজুর মনে শান্তি ছিল না। সব সময় একটা ভয় কাজ করছিল যে শিমু যদি রাজি না হয়, আর যদি সে তার বাবাকে সবকিছু বলে ফেলে তাহলে রাজুর মান-সম্মান সবই যাবে। রাজুর মনে সেই ভয় প্রতিটা সময়ই করতে থাকল।

    সে দু-তিনদিন শিমুর সামনে যাচ্ছে না। কি হতে পারে, কি হতে পারে, তা ভাবতে ভাবতে রাজুর যেমন নাওয়া খাওয়া ঘুম সব বাদ। রাজু শিমুর জন্য কবিতা লেখত প্রায় সময়।আগে থেকেই রাজু মাঝে মাঝে কবিতা লিখত। এই কবিতা লেখাটা ছিল তার সবচেয়ে বড় গুণ।

    – প্রায় ৪ – ৫দিন পর,স্কুলে যাওয়ার পথে শিমুর সাথে হঠাৎ রাজুর দেখা।শিমু রাজুকে দেখে হাসছে, অন্যদিকে রাজু লজ্জায় মরে যাচ্ছে।শিমুও তখন তার হাত থেকে একটি  ভাঁজ করা কাগজ রাজুর হাতে দিল। এবং বললো যে বাড়িতে নিয়ে পড়তে।

    এই বলে শিমু সেখান থেকে দৌড়ে চলে গেল।রাজু কিছুদুর হেটে ভাঁজ করা কাগজটা খুলে দেখল, সেখানে লেখা আছে আমিও তোমাকে ভালোবাসি। রাজু সেটা দেখে এতটাই খুশি হলো যে তার মনে হলো জীবনের সবচেয়ে সুখের মূহুর্ত হচ্ছে তার সেটি।এভাবেই রাজু ও শিমুর প্রেমের জীবন শুরু………….!