ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদোর জীবনের উত্থান ,পতনের গল্প কি ছিল ? পর্ব-২

  • 3
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদোর জীবনের উত্থান ,পতনের গল্প কি ছিল ? পর্ব-২

1 Answer

  1. পর্ব-২

    তারপর বিশ্বের সেরা তারকা হয়ে খেলতে গেলেন ৯৮ বিশ্বকাপে।  লিওনার্দো রিভালদোর সাথে অ্যাটাকিং থার্টিজএ বোঝাপড়া তিনিই প্লে মেকিং স্ট্রাইকার রোলটা খেলে সেটা তার আগে একজন নিখাদ নাম্বার নাইন এর কাছে কখনো দেখেনি বিশ্ব। বামপ্রান্ত ডান প্রান্ত দিয়ে বুলেট গতির সব স্লো রান কাট ইনসাইড করে সেন্টারে  এসে আলতো করে রিভালদো বা লিওনার্দোর কাছে বল লিভ  করা আবার বক্সে ঢোকা,রিভালদো বা লিওনার্দোর বাড়ানো বলে ফিনিশ করা এটা একটা ট্রেডমার্ক  মুখ হয়ে দাঁড়ায়  ১৯৯৮  সালের বিশ্বকাপে।এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকত গ্যারেথ বেলের গতি রোনালদিনহোর কৌশল জিদানের বুদ্ধিমত্তা আর একেবারে নিজস্ব রোনালদোর ফিনিশিং।  সাথে ছিল তার ট্রেডমার্ক ওয়ান অন ওয়ান ফিনিশিং। স্টেপ ওভার দিয়ে গোলকিপারকে কাটিয়ে আলত  ঢুকা বিশ্বের সেরা সব ফরোয়ার্ডরা যেখানে ওয়ান টু ওয়ান শট নিতে  সামান্য দেরি করতেও দ্বিধা করে সেখানে রোনালদোর বেশিরভাগ ফিনিশিং স্টেপ  ওভার দিয়ে করা।

    সেই আসরের ফাইনালে ওটা আগ পর্যন্ত করেন চারটি গোল। তিনটি এসিস্ট,ফাইনালে একেবারেই ব্যর্থ ছিলেন। ফলে ফ্রান্সের কাছে হেরে যায় ব্রাজিল। কিন্তু রোনালদো ঠিকই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। তবুও সমালোচনা সঙ্গী হলো তার। আর এই সমালোচনার জবাব দিতে বেছে নেন ১৯৯৯ সালের কোপা আমেরিকা প্রতিযোগিতা। রিভালদো আর তরুণ রোনালদিনহোকে নিয়ে  আর্জেন্টিনা উরুগুয়ে পরাক্রমের সাথে হারিয়ে জিতে নেয় ব্রাজিল। পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলের দানবীয় আক্রমণ তো ছিলই। কিন্তু ক্যারিয়ারে কাল অধ্যায় নেমে আসে ক্লাব ফুটবলের ২০০১ সালের সাথে এক ম্যাচে। এই ম্যাচে মারাত্মক ইনজুরিতে পড়েন ফলে ১১ মাস বিশ্রামে থাকতে হয় তাকে।১১ মাস পরে ফিরে এসে ২০০১ সালে মাত্র ১৭ মিনিট খেলার পর আবারও ইনজুরি সবমিলিয়ে ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইনজুরির করাল থাবায় সাকুল্যে খেলেছিলেন ২৬ টি ম্যচ। একই জায়গায় দুবার অপারেশনের কারণে অনেকেই ভাবলেন মাত্র পঁচিশ বছর বয়সের সেরা প্লেয়ারের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হচ্ছে।

    এদিকে ২০০২ সালের বিশ্বকাপের সময়ও চলে এলো। অনেকেই ভাবলেন রোনালদো এবার বিশ্বকাপ বুঝি মিস করে ফেলবেন। কিন্তু তৎকালীন কোচ স্কলারি আস্তা  রাখলেন রোনালদোর উপর। আসলে দুবার ভয়ানক  ইনজুরিতে পড়ায় তার মূল অস্ত্র স্পিড কমে গিয়েছিল।বদলে ফেললেন খেলার ধাচ। হয়ে গেলেন পিওর ফিনিশার। সাধারণভাবে একটি কত চলতেই থাকল যে রোনালদো শুধু দাঁড়িয়ে থাকেন আর বল আসলে গোল দেয়। এটা তিনি করতে বাধ্য হয়েছিলেন তার ইনজুরির জন্য ক্যারিয়ার টাকে লম্বা করার জন্য। ২০০২ সালের বিশ্বকাপে  সাত ম্যাচে করলেন আট গোল। ফাইনালে জোড়া গোল সবমিলিয়ে জিতলেন গোল্ডেন বুট। বিশ্বকাপে এরকম খেলার জন্য তৃতীয়বারের মতো বিশ্বসেরার খেতাব জেতেন। পাশাপাশি সাক্ষী হলেন ব্রাজিলের পঞ্চম এবং নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের।

    সে বছরই হলেন ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার। ইনজুরি বিজড়িত ক্লাব ক্যারিয়ারে ৯৯ খেলায় ৫৯ গোল নিয়ে ইন্টার মিলান পর্ব শেষ করেন রোনালদো। ২০০২ সালে ট্রান্সফার হন রিয়াল মাদ্রিদে।এবার আবারও রেকর্ড করেন, ৩৯ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফার ফির। প্রথম ম্যাচে দু গোলে করে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেন দ্য ফেনোমেনন। আর প্রথম সিজনে ২১ গোল করে রিয়ালকে লা লিগা জিতিয়ে নিজে যে ফুরিয়ে যাননি তার জানান দেন বিশ্বকে। এর বাইরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ এবং ২০০৩  সালে স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে অবদান রাখেন এমনকি তখনো তিনি পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। যা রিয়ালের সময় গুলোতে খুব ভুগিয়েছে কিন্তু তারপরেও রিয়ালের হয়ে ১২৮ ম্যাচে  ৮৩ গোল একদম কম নয়। পেয়েছেন বেকহ্যাম, জিদান,ফিগোর মত বিশ্বসেরা সতীর্থ কিন্তু সবকিছুর ম্লান হতে থাকে। নিজের শরীরের ওজন বাড়তে থাকে রোনালদোর ওজনজনিত সমস্যায় আগের গতি কিংবা খেলার ধরনের অনেক ছেদ পড়ে।এছাড়াও ওজনের কারণে তার শারীরিক আরো সমস্যা দেখা দেয় যদিও রিয়ালের ম্যানেজার ফ্যাবিও ক্যাপিলোর সহায়তায় মাঠে তিনি অনেকখানি সক্রিয় ছিলেন।

    ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ চলে এল, এ বিশ্বকাপে সমালোচনা তাকে ঘিরে ধরল। রিয়াল মাদ্রিদ এর আগের সিজনটা ভালো কাটেনি। ইনজুরিতে ছিলেন বেশ কিছুদিন, মুটিয়ে গেছেন অনেক। ফিটনেস আছে কিনা সেটা নিয়েও কানাঘুষা। তবে তার উপর আস্তা রাখলেন  কোচ। আস্তার প্রতিদান  যেন যথার্থ  দিতে পারেননি তিনি, ব্রাজিল কোয়ার্টার থেকে বাদ পড়ে। বাদ পড়ার আগে বিশ্বকাপ দলের খাতায় আরও তিন গোল যোগ করে ১৫ গোল নিয়ে হন সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপের গোল স্কোরার।বিশকাপ এর পর তাকে যেন আর খুজেই পাওয়া গেল না ।ফিটনেস সমস্যা বাড়তেই থাকল যার কারনে ২০০৬ সালে রিয়াল ছাড়লেন ।২০০৭ সালে ১৮ জানুয়ারী ৭.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে এসি মিলানে যোগ দেন ।নাম্বার ৯ কে দেয়া হল ৯৯ নং জার্সি । প্রথম সিজনে সিস্প্রভ ছিলেন,আর ঠিক তারপই ইঞ্জুরিতে পড়ে গেলেন ২০০৮ সালে ।সেই সিজনে আর মাঠে ফেরা আর সম্বভ হয় নি তার আর তাই এসি মিলান ও চুক্তি নবায়ন করে নি ।

    আসলে রোনালদো অনেক বার ই নিজেকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন ।ভাগ্যের কাছে যেন বার বারই হেরে যাচ্ছিলেন ।ইঞ্জুরি আর বয়সের চাপে যেন্ শেষ এর দিকে যেন ইউরোপের ক্লাব গুলোতে নিজেকে যেন কোন ভাবেই তুলে ধরতে পারছিলেন না ।সবশেষে ২০১১ সালের ৭ ই জুন ব্রাজিল এর হয়ে রিটায়ার্ড ম্যচ খেলেন রোমানিয়ার বিপক্ষে ।সেই ম্যচে অন্য্ এক রোনালদোকে দেখা যায় ।বিশাল দৈত্যকার শরীর আর বয়সের ভারে মুটিয়ে যাওয়া এক ফুটবলার ।প্রীতি ম্যচে ৩০ মিনিটের সময় বদলি হিসেবে মাঠে নামেব তিনি,৩ টি গোল এট্যাকের সব গুলোই মিস।
    ব্যক্তিগত জীবনে ২ ছেলে আর ২ মেয়ে সন্তানের জনক রোনালদো……।।

    • 1

Leave an answer

You must login to add an answer.