সিলেটের দর্শনীয় স্থানসমূহ পর্ব-৮ “সর্বোচ্চপাহাড় চূড়া ‘কালাপাহাড়”

  • 1
সিলেটের দর্শনীয় স্থানসমূহ পর্ব-৮ “সর্বোচ্চপাহাড় চূড়া ‘কালাপাহাড়”

1 Answer

  1. সিলেটের সর্বোচ্চ চুড়া কালাপাহাড়। নামটি কালাপাহাড় হলে কি হবে এটি সবুজেঘেরা এক অরণ্যময় পাহাড়।এমনকি এটি বাংলাদেশের উত্তর অংশেরও সর্বোচ্চ বিন্দু।বাংলাদেশ জিওগ্রাফিক সোসাইটির মতে, এই পাহাড়টি ‘হারারগঞ্জ পাহাড়’ নামেও পরিচিত। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে কালা পাহাড়ের উচ্চতা ১,১০০ ফুট। একদল স্থানীয় অভিযাত্রী যাদের নাম “বিডি এক্সপ্লোরার ” তারা এই চূড়াটি খুঁজে পায় ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে এবং গারমিন চালিত জিপিএস দিয়ে পরিমাপ সর্বোচ্চ বিন্দু ১,০৯৮ ফুট।এই পাহাড়ের ৬০% বাংলাদেশে পড়েছে এবং বাকি ৪০%অংশ ভারতের উত্তর ত্রিপুরায় অবস্থিত। ভারতে ত্রিপুরায়এর বাকি অংশ “রঘুনন্দন” পাহাড় নামে পরিচিত।

    কালা পাহাড়ের পর্বতশ্রেণীকে স্থানীয় ভাষায় স্থানীয়রা “লংলা পাহাড়শ্রেণী” নামে ডেকে থাকেন।এই জায়গাটি মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত। মৌলভীবাজারের আজগরাবাদ উপজেলায় এর অবস্থান।আজগরাবাদ চা বাগান থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই কালাপাহাড়। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো এই পাহাড়ে আপনি মৌলভীবাজারের কয়েকটি উপজেলা থেকে খুব সহজে যাওয়া যায়। মৌলভীবাজারের জুরী উপজেলার রাজকি চা বাগান থেকেও আপনি এই পাহাড় দেখতে পারবেন। এমনকি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার রবির বাজারের নিকটে অবস্থি আজগরাবাদ টি স্টেট থেকে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা পথ হেটেই চলে যাওয়া যাবে কালা পাহাড়ে । এছাড়া জুরী উপজেলার ফুলতলা বাজারের কাছে অবস্থিত রাজকি টি স্টেট থেকেও কালা পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ কর যায়। এই কালা পাহাড়ে যাওয়ার পথে অনেক টি স্টেট আপনার চোখে পড়বে। চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজার আপনি গিয়েছেন এই স্টেট গুলি আপনাকে বার বার মনে করিয়ে দিবে।

    যারা সবসময় অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় ঘুরে বেরায় তাদের ঝুলিতে এই কালাপাহাড়ের গল্প ও যুক্ত করতে পারবেন ভ্রমনপিয়াসু মানুশ।বিখ্যাত প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ধর্মীয় স্থান” ঊনকোটি ” যেটি কিনা এই পাহাড়টির পাদদেশে অবস্থিত। শরৎকালে যখন আকাশ পরিষ্কার থাকে,তখন এই কালা পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়া থেকে হাকালুকি হাওরের নীল পানির সৌন্দর্য দেখা যায়। এমনকি এই পাহাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খাসিয়া পল্লী। সেই পল্লী গুলোর রয়েছে বিভিন্ন নাম – নুনছরা পুঞ্জি,পানাইছরা পুঞ্জি,পুটিছরা পুঞ্জি এবং বাইগঞ্ছরা পুঞ্জি।

    কালা পাহাড়ের পর্বতশ্রেণীকে স্থানীয় ভাষায় স্থানীয়রা “লংলা পাহাড়শ্রেণী” নামে ডেকে থাকেন। আজগরাবাদ টি স্টেট থেকে আপনি যদি কালাপাহাড় যান তাহলে প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ি ও ঘুরে যতে পারবেন খুব সহজে।এই পুরোনো স্থাপনার সবচেয়ে বড় আকর্ষন হলো শিয়া সম্প্রদায়ের নকশা করা একটি চমৎকার ইমামবাড়া। প্রত্যেকটি স্থাপনাতে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পারবেন আপনি। এ ছাড়া পাশেই রয়েছে চমৎকার শান বাঁধানো ঘাটসহ বিশাল দীঘি। পৃথিমপাশার চমৎকার স্থাপনাটা মিস করবেন না যাএা পথে। আজগরাবাদ বাগানের রাস্তা শেষ হতেই পাহাড়ি পথ ধরে বেগুনছড়া পুঞ্জির শুরু, যাএা পথে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর এই সম্প্রদায়ের সাথে ও দেখা হবে আপনাদের।পাহাড়ি ঝিরি আর কয়েকটা বাঁশের সাঁকো ও আপনার চোখে পরবে। হাটতে হাটতে প্রায় ৪০ মিনিট পরে দূর থেকেই চোখে পড়বে টিনের ছাদ আর পাঁকা বাড়ি সমেত বেগুনছড়া পুঞ্জি। এখানকার খাসিয়া জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস পান চাষ। পানের বড় বড় বারা আপনার চোখে পড়বে আর মনে হবে আপনি কোন এক পানের রাজ্য বিচরণ করেছেন। এছাড়াও চোখে পড়বে অধিবাসীদের প্রার্থনার স্থান আর একটা ছোট স্কুলঘরও।

    বৃষ্টির দিনে ভুল করেও কালাপাহাড়ে যাবেন না, কারণ বৃষ্টির সময় পাহাড়ে বিচরণ করাটা প্রচন্ড কষ্টসাধ্য। বৃষ্টিতে পাহাড়ি পথ হয়ে উঠে প্রচণ্ড পিচ্ছিল। তারমধ্যেই খাঁড়া জায়গাগুলোর মাটি আলগা হয়ে ধ্বসে পড়াতে আরোহন করা বেশ দুরূহই হয়ে উঠে। এই পাহাড়ে হাতির বিচরণ ও হয়ে থাকে তবে এগুলো মূলত পোষ্য হাতি। সীমান্তের কাঁটারের বেড়ায় আটকে গেছে বন্যহাতির অবাধ বিচরণ। এছাড়া বৃষ্টির দিনে পাহাড়ে দেখা যায় টইগার হাতির পাল, সেইজন্য বর্ষাকালে এই পাহাড়ে না যাওয়াটাই উওম। কালাপাহাড়ের চূড়ায় পৌছে আপনি নিজেকে আবিস্কার করবেন এক অন্য জগতে যেখানে দাড়িয়ে আপনি পুরো সিলেটকে দেখতে পারবেন এক নজরে। শুধু সিলেট বললে ভুল হবে আপনি দেখতে পারবেন ভারতের এিপুরা রাজ্যর কিছু অংশও।

    কিভাবে যাবেন ও খাবেন কোথায়ঃ

    ঢাকা থেকে কালা পাহাড় আসতে হলে অবশ্যই আপনাকে কুলাউড়াগামী ট্রেন অথবা বাসের টিকেট কেটে কুলাউড়া যেতে হবে। আপনি চাইলে শ্রীমঙ্গল অথবা মৌলভীবাজার গামী ট্রেন অথবা বাসপর টিকেট করে নিতে হবে। মৌলভীবাজার থেকে অটোতে রবিরবাজার হয়ে আজগরাবাদ চা বাগানে আসতে হবে। লোকাল সিএনজিতে গেলে জন প্রতি ৫০-৬০ টাকার মতো খরচ পড়বে। আজগরাবাদ অথবা বেগুনছড়া পুঞ্জি থেকেই একজন অভিজ্ঞ গাইড খুঁজে নিতে হবে। সাথে গাইড নিয়ে গেলে কালা পাহাড়ের পাশেই ভারত সীমান্ত, তাই পথ ভুল হলে তা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে।

    খাওয়ার জন্য আপনারা আজগরাবাদ চা স্টেট এ হালকা নাশতা করে যেতে পারেন যেহেতু পাহাড় এ যাবেন তাই ভারী খাবার থেকে একটু দূরে থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ফিরে এসে শহরে কিছু খেয়ে নিবেন পাঁচ ভাই অথবা পানসী রেস্টুরেন্টে। এই রেস্টুরেন্টের খাবারের মান অনেক ভালো। থাকার জন্য শহরে যেকোন ভালো মানের হোটেলই আপনাকে বেছে নিতে হবে।

    • 1

Leave an answer

You must login to add an answer.