KiHobe Latest Articles

Ashit Sharkar
  • 0

কি ছিল হারিয়ে যাওয়া দুই কিশোর এর গল্প ? পর্ব-২

  • 0
কি ছিল হারিয়ে যাওয়া দুই কিশোর এর গল্প ? পর্ব-২

Leave an answer

You must login to add an answer.

1 Answer

  1. মাঝে মাঝে তারা বিভিন্ন জায়গায় টিপ কলের মধ্যে পানি খেত। একদিকে তাদের পায়ে অনেক ব্যাথা অন্যদিকে তাদের পেটে অনেক ক্ষুধা। কিন্তু তারা কারো কাছে কোন সাহায্যও চায়নি।তাদের মনে তখনো অ্যাডভেঞ্চার জয় করার লক্ষ্য।

    হাঁটতে হাঁটতে তারা দেখছিল যে রাস্তার পাশে একটি মেয়ে কলার মুচা পাড়ছে, তারা তখন খুদার জ্বালায় কৌশলে ওই মেয়েকে বলল যে একটা কলার মুচা(সিলেটি ভাষায় কলার-থুর ) দেওয়ার জন্য কিন্তু মেয়েটি তাদেরকে কলার মুছা দিল না।ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে তারা হাঁটতে হাঁটতে প্রায় মুন্সিবাজারের কাছে চলে এসেছে, তখন প্রায় বিকাল তিনটা বাজে।

    হঠাৎ এক লোক মাথায় টুপি ওয়ালা ওই লোকটার কাছে তারা জানতে চাইল তাদের খালার বাড়ির গ্রামে কত দূর। তখন লোকটির সন্দেহ হলো এবং তখন তারা লোকটিকে সবকিছু বলল। লোকটি তখন বিষয়টা শুনে ভয় পেয়ে গেল এবং লোকটি তাদেরকে বিশ টাকা দিয়ে বলল যে তোমরা এই টাকা দিয়ে ভাড়া দিয়ে চলে যেও।

    তারা তাদের অ্যাডভেঞ্চার রক্ষা করবে বলে গাড়ি দিয়ে না গিয়ে তখন ওই ২০ টাকা দিয়ে পাউরুটি কিনলো এবং রেস্ট নিয়ে আবার রোওনা দিল।বিকাল প্রায় চারটা তখন তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত খালার বাড়ি পৌঁছালো। হাঁটতে হাঁটতে তাদের সারা শরীর ব্যথা হয়ে গেছে এবং ক্ষুধার জ্বালায় তাদের চেহারা যেন চেনা যাচ্ছিল না।

    তখন তারা প্রথমে খালার বাড়ির পুকুরে গিয়ে হাত পা ধুতে লাগলো তখন অমি-এর খালাতবোন তাদেরকে প্রথম দেখে  ভাবল যে এরা হয়ত পাশের গ্রামের কাজের ছেলে,কিছুক্ষণ পর অমি আবার ডাকল।তখন তার খালাতো বোন দেখে চিনতে পারল এবং তার খালাকে ডাক দিল।খালা দৌড়ে এসে সবকিছু দেখে একদম অবাক হয়ে গেল।কোনরকম হাত-পা দুয়ে তারা ঘরে গেল।

    অন্যদিকে অমির মামার বাড়ির অবস্থা খুবই খারাপ, তারা সারা গ্রাম খুজল। অমির নানা-নানি, গোবিন্দ এর মা, দাদী, বাবা সবাই প্রায় পাগল পাগল অবস্থা কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সারা বাড়িতে যেন মরা কান্না শুরু হয়ে গেল। বিভিন্ন গ্রাম হাওর মাঠ সব জায়গায় তারা খুজলো। কিন্তু কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না ।অনেকে অনেক ধরনের কথা বলছে, গ্রামের কেউ বলছে যে একটি কালো গাড়ি এসেছিল, আবার কেউ বলছে হয়তো ছেলে ধরা ধরে নিয়ে গেল নাকি।

    বাজার বিভিন্ন জায়গায় সব জায়গাতে খোজা হলো কোন জায়গা বাদ দেওয়া হলো না।অমির নানা ছিলেন অত্র কয়েক গ্রামের মধ্যে একমাত্র শিক্ষক সবাই উনাকে চিনত এবং সম্মান করতো। ইতিমধ্যে কয়েক গ্রামের মানুষের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেছে যে মাস্টারের নাতি নিখোঁজ হারিয়ে গেছে। চারিদিকে মাইকিং শুরু বাড়িতে কান্না বিভিন্ন মাজার পীরের কাছে মানত।সারা গ্রামের মানুষের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়ে গেল, সবাই তাদের কে খুজছে। সারা গ্রাম আত্মীয়-স্বজন সবার নাওয়া-খাওয়া বন্ধ সকাল থেকে সবমিলিয়ে খুবই খারাপ অবস্থা।তারপর বিকাল প্রায় সাড়ে চারটার দিকে অমির খালার বাড়ি থেকে ফোন আসলো যে অমি তাদের বাড়িতে গিয়েছে। তখন তারা কিছুটা স্বস্তি পেল।

    অমির খালার বাড়ির বিভিন্ন মুরুব্বী এবং অমির নানাবাড়ির বিভিন্ন মানুষ তাদের কাছে যখন তারা কিভাবে গিয়েছিল সেই কথা জানতে চাইত তখন তারা বলত যে তারা যাওয়ার পথে হাওরের মধ্যে একটি গাছ সেই গাছে বসা কাল কি যেন দেখেছিল। তখন তারা কিছুটা ভয় পেয়ে গিয়েছে। গ্রামের মানুষ সব আত্মীয় স্বজন বা সবাই একটি কথাই নিজে থেকে তারা বলতে লাগল যে তারা তখন সজ্ঞানে যায়নি, হয়তো তাদের শরীরে কিছু একটা ভর করেছিল বা( মক্কিল গ্রামের ভাষায়) সেটি তাদেরকে এতদূর নিয়ে গিয়েছিল।

    স্বাভাবিকভাবে এত ছোট ছেলে দুজন এভাবে যাওয়া সম্ভব হতো না। কিন্তু সত্যিকার অর্থে,মূল ঘটনা হচ্ছে যে এসব মক্কিল টক্কিল কিছুই না ছেলে দুটির নিজ ইচ্ছা এবং অ্যাডভেঞ্চারের জেদের কারণেই সবকিছু হয়েছিল।