KiHobe Latest Articles

Ashit Sharkar
  • 0

দেশের অর্থনীতিতে টেকনিক্যাল শিক্ষা,এতে করে কিহবে দেশের ভবিষ্যত ?

  • 0
দেশের অর্থনীতিতে টেকনিক্যাল শিক্ষা,এতে করে কিহবে দেশের ভবিষ্যত ?

Leave an answer

You must login to add an answer.

2 Answers

  1. দেশের অর্থনীতিতে টেকনিক্যাল  শিক্ষার গুরুত্ব –
    টেকনিক্যেল শিক্ষা বলতে আমরা বুঝি, কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্তা।যেখানে একজন শিক্ষার্থী সরাসরি বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা সহকারে পড়াশোনা করে।তাদের পড়াশোনার গন্ডি শুধুমাত্র বই খাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা।বই খাতা এবং থিওরির পাশাপাশি তাদেরকে প্রেক্টিক্যল জ্ঞানে অনেক বেশি জোর দেওয়া হয়।এতে করে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনাটা কিভাবে তাদের বাস্তব জীবনে এপ্লাই করতে হয় তা শিখে ফেলে এবং বাস্তব কাজের একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফেলে। কারিগরি শিক্ষার বেশিরভাগই উৎপাদনমুখী হয়ে থাকে ।কোন দেশ বা কোন অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।যেমন চীন, জাপান, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া,ইত্যাদি যত উন্নত দেশ দেখা যায় তাদের কারিগরি শিক্ষা অনেক বেশি শক্তিশালী।অপর দিক দিয়ে আমাদের বাংলাদেশের অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের দেশের কারিগরি শিক্ষা তেমন বেশি উন্নত না। আমাদের কারিগরি শিক্ষা উন্নত না বলেই আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা তুলনামুলক দুর্বল।
    উদাহরণস্বরূপ —
    বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস আমরা চায়না থেকে কোরিয়া থেকে জাপান থেকে আমদানি করে থাকি। সেসব জিনিস এর গবেষণা, উদ্ভাবন, উৎপাদন এর কোন কিছুই আমরা করি না বলে আমরা ঐসব ডিভাইস বিদেশ থেকে কিনে আনি। এতে করে আমরা টাকার বিনিময়ে ওইসব পণ্য পেয়ে থাকি।কিন্তু ঐসব ডিভাইস বা জিনিসের পিছনে উৎপাদনকারী দেশ, প্রতিষ্ঠান সবার একটা ভালো বেনিফিট রয়েছে যেটা থেকে আমরা বঞ্চিত। যেমন একটা ডিভাইস যখন বানানো হয় সেটার জন্য প্রথমে গবেষণা প্রয়োজন, তারপর সেটা ব্যপক উৎপাদনের জন্য অনেক জনবল প্রয়োজন। গবেষণা এবং উৎপাদনের কাজে গবেষক ও শ্রমিক প্রয়োজন।ওই পণ্যটি উৎপাদনে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে, ফলে বেকারত্ব এর পরিবর্তে মানুষ কর্মট হবে এবং কাজ করবে।ফলে সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে তারা আমাদের কাছ থেকে টাকা নিবে আর আমরা তাদেরকে টাকা দিব।এদিকে আমাদের কোন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে না। আমাদের বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে। আর এই বেকারত্বই হচ্ছে একটি দেশ বা একটি জাতির বোঝা। আজ এসব পণ্য যদি আমাদের দেশে উৎপাদন এবং গবেষণা করা হতো, তাহলে দেশে অনেক কলকারখানা ও প্রোডাকশন হাউজ তৈরি হতো যাতে দেশের অনেক মানুষের কর্মসংস্থান এর ব্যবস্তা হতো।আর বিদেশ থেকে আমদানি না করে চাহিদা পূরণ করতে পারলে রপ্তানি করা যেত।এতে করে দেশের টাকা দেশেই থাকত। উল্টো আমরা বিদেশে রপ্তানি করে দেশে টাকা নিয়ে আসতে পারতাম।
    এসব গবেষণা, উৎপাদন এসব কিছুর জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল। আর এ দক্ষ জনবলের যোগান দিবে কারিগরি শিক্ষা।
    বিভিন্ন ধরনের টেকনিক্যাল কাজ সম্পাদনের জন্য দেখা যায় যে দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলো বিদেশ থেকে জনশক্তি নিয়ে আসে। আর তাদের পেছনে খরচ করতে হয় প্রচুর টাকা পয়সা। আমাদের দেশে যদি ওই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন টেকনিক্যাল ব্যক্তিত্ব থাকতো তাহলে বিদেশ থেকে ওই টেকনিক্যাল ব্যক্তি নিয়ে আসতে হতো না।এতে করে দেশের টাকা দেশেই থাকতো।এছাড়াও কোম্পানির মালিক একজন বিদেশে টেকনিক্যেল ব্যক্তিত্বের যত টাকা খরচ করতেন তার চেয়ে অনেক কম টাকা খরচে দেশের টেকনিক্যাল ব্যক্তিত্বের চাহিদা পূরণ করতে পারতেন। যা দেশের নাগরিক বা কোম্পানির মালিকপক্ষ সবার জন্যই মঙ্গল ছিল।
    তাই কোনো একটি দেশের অর্থনীতির ভিত শক্ত করার জন্য ওই দেশের টেকনিক্যেল শিক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।