KiHobe Latest Articles

Ashit Sharkar
  • 0

বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি সালমান শাহ এর বাংলা সিনেমায় কিভাবে জনপ্রিয় হয়েছিলেন ?

  • 0
বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি সালমান শাহ এর বাংলা সিনেমায় কিভাবে জনপ্রিয় হয়েছিলেন ?

Leave an answer

You must login to add an answer.

1 Answer

  1. সালমান শাহ বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি

    সংক্ষেপে বাংলা নায়ক সালমান শাহ এর জীবন কাহিনীঃ
    সালমান শাহ, বাংলা সিনেমার কিংবদন্তী এক নায়কের নাম। বহুমাত্রিক এ অভিনেতা তার অভিনয় শৈলীর পাশাপাশি তার নিজস্ব ধারার স্টাইলের মাধ্যমে নিজেকে চিনিয়েছেন অন্যান্যদের চেয়ে আলাদা।
    ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট শহরের দাড়িয়াপাড়া নানা বাড়িতে জন্ম নায়ক সালমান শাহ র। বাবা কমর উদ্দিন আহমেদ পেশায় ছিলেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট এবং মাতা নীলা চৌধুরী ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ এবং সংগীতশিল্পী এবং তার মাতামহ ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ এর প্রথম উদ্যোক্তা এবং অভিনেত্রী।
    তিনি পরিবারের বড় ছেলে এবং তার মুল নাম চৌধুরি সালমান শাহরিয়ার ইমন।চলচ্চিত্র জগতে এসে তার নাম হয়ে যায় সালমান শাহ। সালমান শাহ র দাদার বাড়ি সিলেট শহর এর শেখঘাটে যে বাড়ির নাম এখন সালমান শাহ হাউস।পারিবারিক এরকম সাংস্কৃতিক আবহেই ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠেন তিনি তাই স্বাভাবিকভাবেই অভিনয় প্রতিভা তার ছিল দারুণ।
    সালমান শাহ তার প্রতিভা কে ফুটিয়ে তুলতে প্রথম সুযোগ পেয়েছিলেন ১৯৮৫ সালে হানিফ সংকেত এর গ্রন্থনায় কথার কথা নামে একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে। তখন হানিফ সংকেতের স্বকন্ঠে গাওয়া একটি গানে অপূর্ব নামে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে মিডিয়াতে আলোচিত হন তিনি । তখন তাকে সবাই ইমন নামেই চিনত।মিউজিক ভিডিওটি জনপ্রিয় হলেও নিয়মিত টিভিতে না আসায় দর্শক আস্তে আস্তে ইমন কে ভুলে যায়।
    আরো কয়েক বছর পরে অবশ্য তিনি আব্দুল আল মামুনের পাথর সময় নামক একটি নাটকের ছোট্ট চরিত্রে এবং কয়েকটি বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছিলেন। কোন ১৯৯৩ সালে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান একটি নতুন চলচ্চিত্র বানাবেন একদম ফ্রেশ মুখ নিয়ে। সিনেমাতে সালমান শাহর অভিনয়ের কোন কথাই ছিল না, সোহান প্রথমে তৌকির-আহমেদকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন এই সিনেমায় অভিনয় করার জন্য। টেলিভিশনের পরিচিত মুখ তৌকির সিনেমা রঙ্গিন পর্দার ছোঁয়া গায়ে লাগাতে চাননি তখন। মডেল নোবেল কে ও বলেছিলেন সোহান, তিনিও রাজি হননি। নায়ক আলমগীরের স্ত্রীর কাছে ফোন নম্বর পেয়ে সোহান তখন সালমান শাহকে ফোন করেন।
    সেই সিনেমার গল্প মনে হয় ভারতের কোন মুভি থেকে কপি করা ছিল।মূলত এই কারণে তৌকির এবং নোবেল ছবিটি করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে গল্পটি দারুন পছন্দ ছিল ইমনের।সেই গল্পের মুভিটি দেখেছেন কমপক্ষে সাত থেকে আটবার তাই পরিচালকের সাথে সাথে তারও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিল সিনেমাটিতে অভিনয় করার জন্য।
    অতঃপর অভিনয় করলেন কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমায়।সিনেমা মুক্তি পেল, সেটা কেমন দর্শক জনপ্রিয়তা বা ব্যবসা সফল হয়েছিল সেটি জানার জন্য পরিচালক সোহান হলে হলে ঘুরে বেড়ান সেখানে অবশ্য সালমানের অন্য মনস্ক তিনি বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করতেন। সেখান থেকে সিনেমা যে তার ক্যারিয়ার হতে পারে, হতে পারে পেশা সেটা তিনি কোনভাবে বুঝেননি। সেটা তিনি প্রথম বুঝতে পারেন বরিশালে গিয়ে তার শত শত ভক্ত দেখে। অবশ্য তিনি ততদিনে বনে গেছেন ইমন থেকে জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ।
    মাত্র ২২ বছরের একজন যুবক বনে গেছেন রীতিমত একজন সুপারস্টার। তার পরের গল্প ত সবারই জানা, মাত্র তিন বছরের সিনেমার ক্যারিয়ার তার, তাতেই যা করেছেন, তাই তাকে দেশে অমরত্ব এনে দিয়েছে। মাত্র তিন বছরের সিনেমা ক্যারিয়ারে তিনি সিনেমা করেছেন ২৭ টি। কেয়ামত থেকে কেয়ামত শুরু করে সুজন সখি, দেনমোহর, কন্যাদান, প্রেমযুদ্ধ, স্বপ্নের ঠিকানা, মহামিলন, এই ঘর এই সংসার, স্বপ্নের পৃথিবী, সত্যের মৃত্যু নেই, জীবন সংসার, মায়ের অধিকার, চাওয়া থেকে পাওয়া, প্রেমপিয়াসী, আনন্দ অশ্রু কোনটা রেখে কোনটা লিখবো তা ভেবে পাচ্ছি না।তখনকার সময়ে সবগুলো ছবিই ছিল সুপারহিট।
    সালমান শাহের বেশিরভাগ ছবিতে তার বিপরীতে নায়িকা ছিলেন তখনকার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর। নব্বই দশকের জনপ্রিয় জুটি ধরা হয় সালমান শাহ শাবনুর কে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সেই দিনটি ছিল শুক্রবার। আট দশটা স্বাভাবিক দিনের মতো পেরিয়ে যাচ্ছিল সে দিনের সময়।সেদিন বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ৫ টার সংবাদে একটি খবরে পুরো বাংলাদেশ যেন থমকে দাঁড়িয়ে ছিল।বেরসিক সংবাদ পাঠক বিমুগ্ধ হয়ে জানালেন সালমান শাহ আর জীবিত নেই। রহস্যজনক ভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। ভক্তরা যেন কিছুতেই সেই সংবাদ তখন মেনে নিতে পারেনি। তার মৃত্যুর অব্যাহতির পর ঢালিউডে নেমে আসে ধস।সালমান শাহ ছাড়া কোন মুভি দর্শকদের সামনে নিয়ে আসার সাহস পাচ্ছিলেন না পরিচালকরা।এভাবেই বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গন এর এক কিংবদন্তি নায়ক হঠাৎ অকালেই সবার কাছ থেকে হারিয়ে গেল।